empty
 
 
28.08.2025 11:06 AM
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট পাওয়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন

গতকাল ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয় পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফেডের গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগকে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, "আমি চেয়ারম্যান পাওয়েলকে আহ্বান জানিয়েছি যাতে তিনি বাইরের কোনো পর্যালোচনা শুরু হওয়ার আগেই অভ্যন্তরীণভাবে এই বিষয়টি সামলান।" কুকের মামলার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, "এই বিষয়গুলো সমাধান করা জরুরি।"

This image is no longer relevant

বেসেন্টের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও আর্থিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। এই পদক্ষেপ নির্বাহী বিভাগ এবং স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে তুলে ধরছে, যা ফেড নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লিসা কুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতোমধ্যেই আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং দেশটির আর্থিক নীতি নির্ধারণকারী প্রধান প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা দুর্বল করতে পারে।

একজন ট্রেজারি সেক্রেটারির পক্ষ থেকে ফেডের প্রতি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার আহ্বান অস্বাভাবিক, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐতিহ্যগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত। তবে বেসেন্টের দাবি, তার অবস্থান আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এবং এর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির মধ্যে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন পর্যন্ত ফেডের প্রতিক্রিয়া সতর্ক ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা কুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা পর্যালোচনার আহ্বান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ফেডের সুনাম রক্ষা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখতে পাওয়েলকে পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপই পরিস্থিতি কিভাবে গড়ে উঠবে তা নির্ধারণ করবে।

উল্লেখযোগ্য যে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগ আনার পর তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন।

যখন বেসেন্টকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কুককে বরখাস্ত করা কি ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ, যাতে তিনি ফেডের বোর্ড অফ গভর্নর্সে নিজের মনোনীতদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেন, তখন বেসেন্ট জবাব দেন যে সব ফেড গভর্নর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, বর্তমান বোর্ডে ক্রিস্টোফার ওয়ালার ও মিশেল বোম্যান রয়েছেন—দুজনই ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতি স্পষ্টভাবে অনুগত। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভেন মিরানকে কুকের শূন্য পদে মনোনীত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন যে মার্কিন প্রশাসন ওয়ালার বা বোম্যানকে কীভাবে ভোট দিতে হবে তা বলে দেয় না। গত মাসে, উভয় গভর্নরই ফেডের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেন এবং সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নেন, যখন অন্য সদস্যরা তাদের পূর্বের অবস্থানে অটল থাকেন।

বেসেন্ট আরও জানান, পাওয়েলের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া—যার মেয়াদ মে মাসে শেষ হবে—চলমান রয়েছে। তিনি যোগ করেন, শ্রম দিবসের পর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে এবং এরপর অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পকে তিন থেকে চারটি নাম উপস্থাপন করবেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট যাকে বেছে নেবেন, তাঁর নাম "প্রায় নিশ্চিতভাবেই" শরৎকালে ঘোষণা করা হবে।

EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র

ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1660 লেভেলে নিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুধুমাত্র তখনই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1700 লেভেল টেস্ট করার সুযোগ আসবে। সেখান থেকে পেয়ারটির মূল্য 1.1740 পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে, যদিও বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া এটি করা কঠিন হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1780। অন্যদিকে, দরপতনের ক্ষেত্রে আমি শুধুমাত্র মূল্য 1.1620 লেভেলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তার আশা করব । সেখানে সমর্থন না পাওয়া গেলে, 1.1575-এর লেভেলের রিটেস্টের জন্য অপেক্ষা করা অথবা 1.1530 থেকে লং পজিশনে এন্ট্রির কথা বিবেচনা করা উত্তম হবে।

GBP/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র
পাউন্ডের ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যের 1.3525-এর নিকটবর্তী রেজিস্ট্যান্স ব্রেক করাতে হবে। কেবল তখনই 1.3560-এর দিকে মুভমেন্টের সম্ভাবনা হবে, যদিও এর ওপরে ওঠা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হলো 1.3590 লেভেল। দরপতনের ক্ষেত্রে, বিক্রেতারা মূল্য 1.3485 লেভেলে থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তাঁরা সফল হয়, তবে এই রেঞ্জের ব্রেকডাউন হলে সেটি GBP/USD পেয়ারের ক্রেতাদের জন্য গুরুতর ধাক্কা হবে এবং এই পেয়ারের মূল্য 1.3450-এর দিকে নেমে যাবে, যেখানে দরপতন আরও বিস্তৃত হয়ে মূল্য 1.3420 পর্যন্ত নামার সম্ভাবনা রয়েছে

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.