যখন MACD সূচকটি ইতোমধ্যেই শূন্যের অনেক উপরে ছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য প্রথমবার 1.1674 লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল। এই কারণেই আমি ইউরো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিইনি। দ্বিতীয়বার 1.1674 লেভেল টেস্ট করার সময় MACD সূচকটি ওভারবট এরিয়ায় ছিল, যা সেল সিগন্যালের পরিকল্পনা #2 কার্যকর করার সুযোগ করে দেয়। তবে এই পেয়ারের কোনো উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেনি।
গতকাল প্রকাশিত সংশোধিত প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডলার কার্যত এই ফলাফল দ্বারা কোনোরূপ প্রভাবিত হয়নি। মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির পদক্ষেপ নিয়ে আরও সংকেত খুঁজে বের করার দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। সুতরাং, অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল সত্ত্বেও, ডলার বিভিন্ন কারণের প্রভাবে চাপের মুখে ছিল, যার মধ্যে রয়েছে ফেডের পদক্ষেপ নিয়ে প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। নিকট ভবিষ্যতে, ডলারের মূল্যের অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং যেকোনো নতুন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে।
আজ অর্থনীতিবিদ এবং মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা জার্মানির অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে আসন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে খুচরা বিক্রয়ের পরিসংখ্যানের ওপর, কারণ এগুলো ভোক্তাদের কার্যকলাপকে নির্দেশ করে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক। খুচরা বিক্রয়ের পতন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতার ইঙ্গিত দিতে পারে, আর বৃদ্ধি স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেবে। কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বেকার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেলে সেটি শ্রমবাজারের নেতিবাচক প্রবণতার সংকেত হতে পারে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিপরীতে, ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে। আর অবশ্যই, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI)। এই সূচকের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর চক্র শেষ করতে পারে, যা ইউরোকে সমর্থন দেবে তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। সুতরাং, আজ ইউরোজোনের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থেকে প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং সম্ভবত কারেন্সি মার্কেটের গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের ওপর মনোযোগ দেব।
বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1708-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1674-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরো কিনতে পারেন। মূল্য 1.1708-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.1655-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরো কেনার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1674 এবং 1.1708-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য চার্টে লাল লাইন দ্বারা চিহ্নিত 1.1655-এর লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরো বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1626-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ! বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.1674-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ ইউরো বিক্রি করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1655 এবং 1.1626-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
চার্টে কী আছে:
হালকা সবুজ লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।
গাঢ় সবুজ লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
হালকা লাল লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।
গাঢ় লাল লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।
মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।
মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
You have already liked this post today
*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।