empty
 
 
29.08.2025 07:46 AM
২৯ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ টিপস ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1H চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার, EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সাইডওয়েজ মুভমেন্টের মধ্যেও বুলিশ প্রবণতা বজায় ছিল। এটি আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ রেঞ্জের (ফ্ল্যাট) মধ্যে ট্রেডিং মার্কেটে একটি সাধারণ ঘটনা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে কিংবা এই সপ্তাহে কোনো উল্লেখযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। তদুপরি, ট্রেডাররা যে প্রতিবেদনগুলো পেয়েছে সেটির ফলাফল একটি দিকেই ইঙ্গিত করছে: ডলার বিক্রি করা উচিত। এখনো নতুন করে ডলার বিক্রয়ের প্রবণতা দেখা না যাওয়ায় এটি মূলত মার্কেটে একটি বিরতির ইঙ্গিত দিচ্ছে—অন্যভাবে বললে, মার্কেট ফ্ল্যাট অবস্থায় রয়েছে। ট্রেডাররা কেবল নতুন প্রবণতা শুরু হওয়ার আগে শক্তি সঞ্চয় করছে। গতকাল জানা গেছে যে মার্কিন অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে 3% নয়, বরং 3.3% হারে প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে। তবে আমরা যেমনটি বলেছি, এই খবরে ডলারের জন্য তেমন ইতিবাচক কিছু নেই, কারণ জিডিপি ছাড়া অন্যান্য মার্কিন অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশিরভাগই বৃদ্ধি নয় বরং পতনের শিকার হচ্ছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথমে, পেয়ারটির মূল্য 1.1655–1.1666-এর গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া অতিক্রম করে এবং তারপর উপর থেকে কয়েকবার ওই লেভেল থেকে রিবাউন্ড করে। ফলে, নতুন ট্রেডারদের জন্য লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই ট্রেডগুলো থেকে প্রায় 10–15 পিপসের সীমিত মুনাফা করা সম্ভব ছিল, তবে পরিস্থিতি বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল, তাই পজিশনগুলো শুক্রবার বা এমনকি পরের সপ্তাহেও হোল্ড করে রাখা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের কৌশল:

ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের এই বছরের শুরু থেকে গঠিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনো মার্কিন ডলারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা প্রায় হরাইজন্টাল (সাইডওয়েজ) মুভমেন্টই লক্ষ্য করেছি। আমাদের মতে, আগের মতোই, ডলার কেবল টেকনিক্যাল কারেকশনের ওপর নির্ভর করতে পারে।

শুক্রবার স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং হতে পারে, কারণ আজও খুব অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1655–1.1666 এরিয়া ব্রেক করে উপরের দিকে গেলে মূল্যের 1.1740-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে। আবার 1.1655–1.1666-এর নিচে কনসোলিডেশন হলে 1.1571-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে।

5-মিনিট টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেলগুলো হলো: 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1292, 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527, 1.1552–1.1563–1.1571, 1.1655–1.1666, 1.1740–1.1745, 1.1808, 1.1851, 1.1908।

শুক্রবার জার্মানিতে খুচরা বিক্রয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এগুলো আকর্ষণীয় প্রতিবেদন হলেও ব্যাপকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে PCE প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত আয়/ব্যয়ের পরিসংখ্যান এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোক্তা আস্থা সূচক প্রকাশিত হবে—এসবও সর্বোচ্চ গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন নয়।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টের মূল উপাদান:

সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।

লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.