আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের সূচি নির্ধারিত রয়েছে, তবে এর কোনোটিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানিতে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; তবে এগুলো ইউরোজোনের একটি মাত্র দেশের প্রতিবেদন, আর বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে খুব সামান্য প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রে আজকের প্রধান প্রতিবেদন হলো PCE সূচক, যা মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যভাবে বললে, এই সূচক ব্যক্তিগত ভোগ্য ব্যয়ের পরিবর্তন প্রদর্শন করে। সাধারণত এটি মাসিক ভিত্তিতে 0.2% থেকে 0.3% পর্যন্ত পরিবর্তিত হয় এবং মার্কেটে তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। মুদ্রাস্ফীতির গতিশীলতা পরিমাপের প্রধান সূচক হিসেবে ভোক্তা মূল্য সূচকই (CPI) বিবেচিত হয়।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস দে গুইন্ডোসের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ইসিবি কার্যত মুদ্রানীতি নমনীয় করার চক্র সম্পন্ন করেছে এবং ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি 2%-এর আশেপাশে স্থিতিশীল হয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের আরোপের প্রতিক্রিয়াতেও খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং, বর্তমানে ইসিবির সুদের হার আরও কমানোর জন্য কোনো কারণ নেই। কেবল মুদ্রাস্ফীতি যদি অব্যাহতভাবে কমতে থাকে, তবেই নতুন করে সুদের হার কমানো যেতে পারে।
ট্রেডারদের কাছে বাণিজ্য যুদ্ধই মূল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যেহেতু বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাই মার্কেটে মাঝারি-মেয়াদে ডলার ক্রয়ের কোনো কারণও দেখা যাচ্ছে না। এই সপ্তাহে ট্রাম্প ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে 50% করেছেন। আগের মতোই, কেবল টেকনিক্যাল বিষয় বা বিচ্ছিন কোনো ইভেন্ট/প্রতিবেদনের কারণে মার্কিন মুদ্রার দর স্থানীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি পেতে পারে, এর বেশি কিছু নয়।
সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে আবারও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে উভয় কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং করা হবে। 1.1655–1.1666 এরিয়ার কাছাকাছি ইউরোর একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে, অথবা গতকাল একই এরিয়ার বাই সিগন্যাল অনুসরণ করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারে। গতকাল 1.3518–1.3532 এরিয়ায় পাউন্ড স্টার্লিংয়ের চারটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, যা শুক্রবার এটির মূল্যের নিম্নমুখী মুভমেন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে, এবং ফ্ল্যাট (সাইডওয়েজ) মুভমেন্টের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।