আরও দেখুন
সোমবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের বিশেষ কোনো আকর্ষণীয় মুভমেন্ট দেখা যায়নি। দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর মূল্য প্রায় 50 পিপস বৃদ্ধি পায়, আর দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় 50 পিপস বৃদ্ধি পায়। মূলত, এই পেয়ারের মূল্য দিনে শুরুতে যেখানে ছিল আবারও সেখানে আসার পরই সেশন শেষ করেছে। সোমবার ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য কোনো সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট ছিল না; তাই সামষ্টিক প্রেক্ষাপট মার্কেটে বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলেনি। উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করা যায়—মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আবারও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবু এটাও বলা যাবে না যে এর ফলে মার্কিন ডলার উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের তেমন কোনো মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে না; মূল্য প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একই জায়গায় রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনের নিচে স্থিতিশীল হয়েছে, তবে ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন এখনও প্রাসঙ্গিক রয়েছে। ফলে এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির চেয়ে নতুন করে দরপতনের সম্ভাবনাই বেশি। তথাপি এই মুহূর্তে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ রেঞ্জে মুভমেন্ট প্রদর্শন করে চলেছে। আজ অন্তত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট রয়েছে, তাই আমরা এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল তৈরি হয়। প্রথমটি বাই সিগন্যাল ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়; দ্বিতীয়টি সেল সিগন্যাল ছিল, যার মাধ্যমে প্রথম ট্রেডের লোকসান পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয়। উভয় সিগন্যালই এই পেয়ারের মূল্য 1.1420-1.1432 এরিয়ায় থাকা অবস্থায় গঠিত হয় এবং দিনের শেষে মূল্য 1.1461-1.1466 রেঞ্জে পৌঁছায়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে দুই মাসব্যাপী এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমরা কেবল দুর্বল একটি ঊর্ধ্বমুখী কারেকশন দেখতে পেয়েছি। যেহেতু এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনটি ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে, তাই ইউরোর দরপতন পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং মার্কিন ডলার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে সহায়তা পেতে পারে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1292 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে বাই ট্রেড ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1461-1.1466 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত 1.1267-1.1275, 1.1354-1.1363, 1.1420-1.1432, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754। মঙ্গলবার ইউরোজোনে আবারও কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং কংগ্রেসে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নির্ধারিত দুটি বক্তৃতার মধ্যে প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে। অতএব, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।