আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুক্তরাজ্যে মে মাসের জিডিপি এবং শিল্প উৎপাদনের সংক্রান্ত প্রকাশ করা হবে, যা সাধারণত ট্রেডারদের খুব একটা মনোযোগ আকর্ষণ করে না। এছাড়াও, জিডিপি প্রতিবেদনটি প্রান্তিক বা বার্ষিকের বদলে মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি হলো খুচরা বিক্রয় সূচক। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আজ কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না।
বৃহস্পতিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি ফিলিপ জেফারসন এবং লরি লোগানের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে, এটি উল্লেখযোগ্য যে গত দুই দিনে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দুইবার বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে, মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন সকল তথ্য ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। ওয়ার্শ বলেছেন যে মুদ্রাস্ফীতি কমানোই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য, কিন্তু ফেড কীভাবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় সে ব্যাপারে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। আমাদের মতে, পরিস্থিতি যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা নয়। জুনে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়ায় জুলাই ও সেপ্টেম্বরে ফেডের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্থিতিশীলভাবে ও 'শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক' রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; তবে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, 'পারমাণবিক কর্মসূচী', লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ বজায় রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পুরোদমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে পারে, কিন্তু আবারও সক্রিয়ভাবে মার্কিন ডলারের মূল্যের উত্থানের জন্য এটি স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়। সর্বোপরি, তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসেনি। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে আবারও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই খুব মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশের বা ইভেন্টের সম্ভাবনা নেই। ইউরো 1.1461-1.1466 এরিয়ার আশেপাশে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এবং 1.3587-1.3598 এরিয়ার আশেপাশে ট্রেড করা যেতে পারে। ইউরোর মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বেরিয়ে এসেছে, অন্যদিকে তিন সপ্তাহ ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।