আরও দেখুন
নতুন করে বিটকয়েন বিক্রির অনুমোদন সংক্রান্ত গুজবের বিষয়ে মাইকেল সেইলরের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি তীব্র ছিল। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে তিনি বলেছেন যে, স্ট্র্যাটেজির কখনোই 'বিটকয়েন বিক্রি না করার' নীতি ছিল না এবং বিটকয়েন নগদীকরণের কর্মসূচিটি ২৯শে জুন ঘোষণা করা হয়েছিল—যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের ৩১ দিন আগে—প্রান্তিক ভিত্তিক প্রতিবেদনে লোকসানের ফলাফল প্রকাশের পরে নয়। তার মতে, এই কর্মসূচির জন্য বিটকয়েন বিক্রি করা বাধ্যতামূলক নয় এবং কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদে এই অ্যাসেটের একজন নিট ক্রেতা হিসেবেই থাকবে বলে আশা করছে। উল্লেখ্য যে, এক মাস আগে স্ট্র্যাটেজি তার মূলধন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অংশ হিসেবে এমন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল, যাতে উল্লিখিত উদ্দেশ্যে বিটকয়েন বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কোম্পানিটি তা করতে বাধ্য নয়।
তার যুক্তির আনুষ্ঠানিক দিকটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার যোগ্য। প্রকৃতপক্ষে, বিটকয়েন বিক্রির উপর আরোপিত বিধিনিষেধ ২৯শে জুনেই ডিজিটাল ক্রেডিট ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা এক মাস পরে $8.32 বিলিয়ন ডলার লোকসানের খবরসহ দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের অনেক আগেই। এবং প্রকৃতপক্ষে, এই ব্যবস্থাটির মাধ্যমে কোম্পানিটি বিটকয়েন বিক্রি করতে বাধ্য নয়: এটি কেবল রিজার্ভ পূরণের জন্য অব্যবহৃত $1.25 বিলিয়ন ডলারের সীমার মধ্যে সেই সম্ভাবনাটি সংরক্ষিত রাখে, যার থেকে প্রাপ্ত অর্থ লভ্যাংশ, সুদ, বাইব্যাক, কর এবং সংশ্লিষ্ট খরচের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই বিশেষ বিবরণটি পূর্বে বিশ্লেষকদের এই যুক্তি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল যে, এই ধরনের নমনীয়তা মার্কেট-ভিত্তিক বাধ্যতামূলক বিক্রির ঝুঁকি বাড়ানোর পরিবর্তে তা হ্রাস করে।
এর চেয়েও এটি হজম করা বেশি কঠিন যে, কোম্পানিটি কখনোই "বিটককয়েন বিক্রি না করার" নীতি গ্রহণ করেনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, সেইলর নিজেই এক্স-এ দুটি শব্দ লিখেছিলেন যা এক প্রজন্মের বিটকয়েন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় একটি পবিত্র স্লোগানে পরিণত হয়েছিল — "আপনার বিটকয়েন কখনোই বিক্রি করবেন না।" আরও কয়েক ডজন সংস্থা সেই শব্দগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাদের ট্রেজারি কৌশল তৈরি করেছিল, এবং বিনিয়োগকারী কমিউনিটি বছরের পর বছর ধরে সেগুলোকে অবিরাম সঞ্চয়ের জন্য একটি কর্পোরেট এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য করে এসেছে। এখন সেইলর এই দুটি স্তরের মধ্যে পার্থক্য করছেন, এবং এই বাক্যটিকে কোম্পানির ট্রেজারি সংক্রান্ত একটি বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি না বলে ব্যক্তিগত হোল্ডারদের জন্য পরামর্শ হিসেবে অভিহিত করছেন — এই ব্যাখ্যাটি মৌলিক অবস্থানের চেয়ে বরং ঘটনার পরবর্তী একটি পুনঃসংজ্ঞায়নের মতো মনে হয়, কারণ ব্র্যান্ড, শেয়ার এবং খ্যাতি একজন অনমনীয় ক্রেতার ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করেই নিবিড়ভাবে গড়ে উঠেছিল।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $63,400-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $64,800 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে দেবে এবং $66,000-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $62,000-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে রয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $60,600-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $58,500 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের মূল্য $1,880-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $1,920 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $1,961-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $1,834-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $1,782-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $1,745 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে