আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের শিকার হলেও পরবর্তীতে প্রায় পুরোপুরি পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের যে উত্থান দেখা গেছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল। যদিও মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এই প্রতিবেদন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। যদি মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাস থেকে 0.3–0.5% বেশি হতো, তবে তা ইঙ্গিত দিতে পারত যে ফেডারেল রিজার্ভের পূর্বাভাস ভুল ছিল এবং সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে—সেক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের মূল্যের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যৌক্তিক হতো। কিন্তু পূর্বাভাসের তুলনায় মাত্র 0.1% পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না। আমরা মনে করি, পাউন্ডের মূল্যের পরবর্তী পুনরুদ্ধারটি আগের দরপতনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত ট্রেডাররা এখন ভিত্তিহীনভাবে মার্কিন ডলার কিনতে কিনতে ক্লান্ত হয়ে গেছে এবং বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত—কারণ এখন মার্কিন ডলারের মূল্যের এই অযৌক্তিক উত্থানের অবসান ঘটতে পারে।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথমে, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার নিচে ক্লোজ হয়; এরপর এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 ব্রেক করে নিচে নেমে যায় এবং সবশেষে পুনরায় 1.3175–1.3180 এরিয়ার উপরে উঠে আসে। প্রতিটি সিগন্যালই নতুন ট্রেডারদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে সর্বশেষ বাই সিগন্যালটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে শিল্প-উৎপাদন এবং মাসিক জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হবে, যা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প-উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তবে সেই প্রতিক্রিয়া জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। আমরা আশা করছি, পাউন্ডের মূল্যের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।