আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার দিনভর EUR/USD পেয়ারের মূল্য়ের ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাতভর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার হামলা ও পাল্টা হামলার প্রতিক্রিয়ায় সকালবেলায় দরপতন ঘটেছে। বিশ্ববাসী আবারও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন প্রত্যক্ষ করেছে এবং নিকট ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার অপ্রত্যাশিত ছিল না। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপীয় মুদ্রার দর কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা দুইটি কারণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, ঘণ্টাভিত্তিক চার্টে দেখা যাচ্ছে যে এই পেয়ারের মূল্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছে; এই পেয়ারের মূল্য সেই চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারিতে পৌঁছালে আবার আপার বাউন্ডারির দিকে ওঠা শুরু করে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফল হতাশাজনক ছিল না, তবুও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপির দ্বিতীয় অনুমানের ফলাফল ট্রেডারদের সন্তুষ্ট পারেনি—মাত্র 1.6% প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে +2.0% প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। এভাবে আমরা মার্কেটে সম্পূর্ণ যৌক্তিক মুভমেন্ট প্রত্যক্ষ করেছি, যা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল।
বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের দুটি চমৎকার ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। সকালবেলায় এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এবং মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রা 1.1655-1.1666-এ পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন থেকে প্রায় 45 পিপস উপার্জন করতে পেরেছেন। দ্বিতীয় সেল সিগন্যালটি গভীর রাতে গঠিত হয়—সেসময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুরো এক মাস ধরে ইউরোর মূল্যের কারেকশন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল; তবু আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। বেশিরভাগ ট্রেডার মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলছে, আর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবে EUR/USD পেয়ারের মূল্য একবার বাড়ছে তো আবার দরপতনের শিকার হচ্ছে।
যেহেতু এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে তাই শুক্রবার নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1591 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করলে নতুন লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, এবং 1.1899-1.1908। শুক্রবার জার্মানিতে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু সেগুলো সম্ভবত কারেন্সি মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে না বা এই পেয়ারের মূল্যকে সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের করে আনতে পারবে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।