empty
15.07.2026 10:20 AM
কেন মার্কিন ডলারের এত তীব্র দরপতন ঘটলো?

ডলারের দরপতন হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর মূল্য বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এমনটা হয়েছে, দেশটির মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাওয়ায় তা সাম্প্রতিক সময়ে মার্কেটে দারুণ বিস্ময়কয় ব্যাপার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

This image is no longer relevant

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বার্ষিক ভিত্তিতে মাত্র ৩.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৩.৮% এর পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং মে মাসের ৪.২% থেকে তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। মাসিক ফলাফল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ: যেখানে মাত্র ০.১% হ্রাসের পূর্বাভাস ছিল, সেখানে মূল্যস্ফীতি ০.৪% কমেছে, অথচ মে মাসে ০.৫% বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল। মূল মুদ্রাস্ফীতি সূচক, যা খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যের মতো অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে বিবেচনা করা যায় এবং যা টেকসই মূল্যস্ফীতির চাপের সবচেয়ে সঠিক সূচক হিসাবে বিবেচিত হয়, তা ট্রেডারদের ঠিক ততটাই অবাক করেছে।

পূর্ববর্তী মাসের তুলনায়, মূল ভোক্তা মূল্য সূচকে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, প্রত্যাশিত ০.২% এর পরিবর্তে এটি ঠিক শূন্যে দাঁড়িয়েছে। বার্ষিক ভিত্তিতে, মূল মুদ্রাস্ফীতি ২.৮%-এর পূর্বাভাস এবং মে মাসের ২.৯% থেকে কমে ২.৬%-এ নেমে এসেছে।

ঠিক তার আগে মার্কেটে যা ঘটছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই বিস্ময়ের মাত্রা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঠিক গতকাল এবং তার আগের দিন, জ্বালানি তেলের তীব্র মূল্য বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ট্রেডারদের মধ্যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রবলভাবে বাড়ছিল, যেখানে ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, যদি মূল মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক মূল্যস্ফীতির চাপের ইঙ্গিত দিতে থাকে, তাহলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করতে বাধ্য হতে পারে। জুন মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এই দাবির সরাসরি বিরোধিতা করে দেখাচ্ছে যে, অন্তত জুন মাসের তথ্য সংগ্রহের সময়, মূল্যস্ফীতির চাপ প্রকৃতপক্ষে কমছিল।

এখানে সময়ের ব্যবধানটি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। জুন মাসের প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার সবচেয়ে সংকটময় পর্যায়ের আগের পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে, যা জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল, যখন ট্রাম্প ইরানি জাহাজের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অন্য কথায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মার্কিন অর্থনীতির এমন এক মুহূর্তের চিত্র, যখন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে প্রভাব ফেলেনি এবং পূর্ববর্তী উত্তেজনা প্রশমনের সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে প্রভাব বিস্তার করেছে।

This image is no longer relevant

এর ফলে এই প্রতিবেদনটি বিশেষ সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার: ট্রেডাররা যখন মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের দৃঢ় একটি সংকেত পেয়েছে, ঠিক তখনই নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে, যা কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানেই প্রকাশ পাবে।

ওয়ার্শের মন্তব্যের কারণে এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের সামনে দেওয়া ভাষণে ফেড চেয়ারম্যান বলেন যে, কমিটির সদস্যরা ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সহ্য করবেন না এবং সুদের হার ৩.৫০-৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রেখে মূল্যস্ফীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তাঁরা একমত।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.