আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরের দিকে উঠতে করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1602-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। তবে, প্রকাশিত মার্কিন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল সত্ত্বেও এই পেয়ারের মূল্য মাত্র 7 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল সত্ত্বেও মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেনি, কারণ ট্রেডাররা তখন প্রতিবেদনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল। আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং সূচক কমে 54.6%-এ নেমে আসে এবং এর অন্তর্ভুক্ত সবকটি উপাদানেরই অবনতি ঘটেছে; তবে মূল্য সূচকটি 71.1%-এ অপরিবর্তিত থাকে, যা জুলাই মাসের পরিসংখ্যানের অনুরূপ। শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে—নিয়োগের সংখ্যা কমে 5.1 মিলিয়নে নেমে এসেছে, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে 188,000 কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং জুন মাসের শূন্যপদের সংখ্যাও সংশোধন করে কমানো হয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের এইরূপ ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়ে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটাত।
তবে ট্রেডারদের দৃষ্টি হরমুজ প্রণালীর দিকে সরে এসেছে, যেখানে উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই প্রণালীর একটি দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হয়; পাশাপাশি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির একটি নতুন কারণ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর জন্য খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; একমাত্র আলোচ্য প্রতিবেদন হিসেবে স্পেনে বেকার ব্যক্তির সংখ্যার পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। কর্মসংস্থান সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়নে সহায়তা করে। তবে কারেন্সি মার্কেটে এগুলোর প্রভাব বা গুরুত্ব খুব একটা বেশি নয় এবং সাধারণত ইউরো ওপরও উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না। তাই এই প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ইউরোর মূল্যের মুভমেন্টের উপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। এ কারণেই, আবারও দরপতনের পর EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর বা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কেটে কোনো জোরালো অভ্যন্তরীণ প্রভাবক না থাকায় এবং পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকায়, সামগ্রিক ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে ইউরোর সাম্প্রতিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নেয়া হতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1622-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1591-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1622-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1577-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1591 এবং 1.1622-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1577-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1552-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1591-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1577 এবং 1.1552-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।